অনুমোদিত আরপিওকে স্বাগত জানালেও জামানত বৃদ্ধির প্রতিবাদ মুক্তিজোটের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশকে (আরপিও) স্বাগত জানালেও নির্বাচনে ২০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা জামানত বৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছে মুক্তিজোট।
দেশকে বিরাজনীতিকরণের হাত থেকে রক্ষার দাবি জানিয়ে মুক্তিজোট সরকারকে বলেছেন আপনারা কি আবার টাকা আর ক্ষমতার প্রভাবকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করছেন।
মুক্তিজোটের বিবেচনায় প্রস্তাবিত জামানত কোনোভাবেই আমাদের দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যেখানে আরপিওতে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ছিল ২০ হাজার টাকা, সেখানে কীভাবে, কোন বিবেচনায় ৫০ হাজার টাকা করা হলো। এটা কি দেশকে বিরাজনীতিকরণেরই আরেক কৌশল!
নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের এ পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে নিলেও মুক্তিজোটের সংগঠন প্রধান আবু লায়েস মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজামাল আমিরুল যৌথ বিবৃতিতে বলেন সরকার গুটিকয়েক রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে নির্বাচনের আরপিও সংশোধন করছে যদি সব দলের মতামত নিত তাহলে হয়ত জামানত বৃদ্ধির বিষয়টি এভাবে আসত না।
২৪শে অক্টোবর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেছেন, আরপিওর এসব বিধিমালা অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে সহায়ক হবে। তবে শুধু বিধিমালা প্রণয়ন নয়, তফসীল পরবর্তী নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতা প্রয়োগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
কিন্তু আরপিওতে কীভাবে একটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হবে, তা উল্লেখ থাকলেও আওয়ামী লীগ আমলের সর্বশেষ তিনটি নির্বাচনে তার কোনো প্রয়োগ বা প্রভাব আমরা দেখিনি। আরপিওর বিধানকে তোয়াক্কা না করে দিনের ভোট রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে; হয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ের একতরফা নির্বাচনের রেকর্ড এবং ‘আমি ও ডামি’ নির্বাচন।
তথাপি ছাত্র-জনতার গণঅভূত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাংলাদেশের মানুষ যখন একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমুলক নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছে, তখন বিগত সময়ের নির্বাচনগুলোর দলীয়করণের কালিমা মুক্ত হয়ে বর্তমান সরকার ও ইসিকে জনগণের আস্থায় ফিরতে হবে, তা সরকার ও ইসি কতটুকু করতে পারবে সময় বলে দিবে।
প্রসঙ্গতঃ ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচন-সংক্রান্ত আচরণবিধির কঠোর প্রয়োগ, প্রার্থীদের আর্থিক শুদ্ধতা যাচাই, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বাড়ানো, জোটের প্রার্থীর নিজস্ব প্রতীক ব্যবহার এবং বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন ঠেকাতে ‘না’ ভোটের প্রচলন, জাতীয় নির্বাচনের জামানত বৃদ্ধি, অনিয়ম হলে পুরো আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জায়গায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করা এমন সব বিধান রেখে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে পরিষদের সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।