ঘূর্ণিঝড় “শক্তি” – উপকূলীয় অঞ্চলে বাড়ছে সতর্কতা
তারিখ: ২২ মে ২০২৫
তিস্তা টিভি
ভূমিকা:
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ক্রমেই ঘূর্ণিঝড় “শক্তি”তে রূপ নেবার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আগামী ২৩ থেকে ২৮ মে’র মধ্যে এটি একটি পূর্ণমাত্রার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়ের বর্তমান অবস্থা:
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি বর্তমানে মাঝারি আকারের গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’তে রূপ নিলে ভারতের ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত:
আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, সাগরের উপরিকাঠামো ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য অনুকূল হয়ে উঠছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
সম্ভাব্য প্রভাব:
উপকূলীয় অঞ্চলে ৬০-৮০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে
সমুদ্র বন্দরসমূহকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে
নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
সরকারি প্রস্তুতি:
প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকূলীয় এলাকার সকল সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। এছাড়া খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সরঞ্জাম মজুদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনসচেতনতা ও করণীয়:
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন
শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন
নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান জেনে রাখুন
গুজব বা অপপ্রচারে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি তথ্য অনুসরণ করুন
ঘূর্ণিঝড় “শক্তি” এখনো সৃষ্ট না হলেও, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। উপকূলবাসীদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে যেন তারা আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলে। এই ঘূর্ণিঝড় থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সচেতনতা ও প্রস্তুতিই সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।